রাহুল গান্ধী গ্রেফতার হলে কংগ্রেসের ক্ষতি ? নাকি বিজেপির!
বুলবুল চৌধুরী : কংগ্রেস নেতা তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এসসিএসটি আইনের এফ আই আর দায়ের করা হয়েছে উত্তরাখণ্ডের দেরাদুনে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি দলিত সম্প্রদায়কে অপমান করেছেন মিথ্যা প্রচার করেছেন। ভারতীয় দণ্ডবিধির জামিন অযোগ্য ধারায় রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরপর থেকে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে রাহুল গান্ধীকে গ্রেফতার করার জন্য উত্তরাখণ্ডের বিজেপি সরকার একটা বিশেষ টিম তৈরি করেছে। রাহুল গান্ধীর গ্রেফতারি সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু গত রবিবার মামলা দায়ের হলেও এখনো পর্যন্ত রাহুল গান্ধীকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না।
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম থেকে নানা ভাবে প্রচার করা হচ্ছে এবার কংগ্রেস নেতাকে গ্রেফতার করা হবে। উল্টোদিকে রাহুল গান্ধী কিংবা তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী অদ্ভুতভাবে নিরব হয়ে গেছেন। কেন এই নীরবতা? তাহলে কি কোথাও একটা বিজেপির সঙ্গে সমঝোতা করার চেষ্টা করা হচ্ছে? নাকি বড় কোন আন্দোলনের পথে যাচ্ছে কংগ্রেস! আসলে কোন পথে হাঁটতে চাইছে কংগ্রেস! তা নিয়েই এই প্রতিবেদনে আলোচনা করা হয়েছে!
দুদিন নীরব থাকার পর হঠাৎই কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকা অর্জুন খার্গে সামনে এলেন। তিনি গতকাল সাংবাদিকদের কাছে জানিয়েছেন উত্তরাখণ্ডের হলদিয়ানিতে তাকে নিয়ে যা ঘটেছে তা নিয়ে তিনি 13 আগস্ট সংসদে বক্তব্য রেখেছিলেন। সেই সময় তিনি অভিযোগ করেছিলেন কংগ্রেস সভাপতি দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ হওয়ার জন্যই তিনি উত্তরাখণ্ডের হলদিয়ানির রাম লীলা ময়দানে সভা করার পর সেই মাঠ কে শুদ্ধিকরণ করা হয়েছে। এই অভিযোগ তিনি যখন রাজ্যসভায় দাঁড়িয়ে করছিলেন ঠিক সেই সময় রাজ্যসভার বিজেপির নেতা তথা দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন মল্লিকা অর্জুন খারগে একজন সম্মানীয় রাজনীতিবিদ তার প্রতি যদি বিদ্বেষ এভাবে ছড়ানো হয়ে থাকে তা নিয়ে তদন্ত হবে এবং অবশ্যই দোষীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে।
এই ঘটনার ২৫ দিন কেটে যাওয়ার পরেও উত্তরাখণ্ড সরকার কি ব্যবস্থা নিয়েছেন আর দেশের একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে যে আশ্বাসবাণী উচ্চারণ করেছিলেন তা কার্যকর করতে কি ব্যবস্থা নিয়েছেন সেটা জানতে চেয়ে কংগ্রেস সভাপতি চিঠি দিয়েছিলেন জেপি নাড্ডা কে। এই চিঠি সামনে আসার পরেই অনেকটাই বেকায়দায় পড়ে গেছে বিজেপি এবং মোদি সরকার। কারণ এতদিন ধরে রাহুল গান্ধী বলেছেন কিংবা কংগ্রেস সভাপতি নিজে বলেছেন সেটা একটা অভিযোগ ছিল মাত্র। এরপর কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে চিঠি লিখে এ বিষয়টি জানতে চাওয়ার মধ্য দিয়ে কার্যত কেন্দ্রীয় সরকারকে ফাঁসিয়ে দিল কংগ্রেস নেতৃত্ব।
তবে কি রাহুল গান্ধী আর গ্রেফতার হবেন না? রাহুল গান্ধীকে গ্রেফতার করাটা বিজেপি সরকারের কাছে কোন বিষয় নয়! বিষয়গুলো রাহুল গান্ধীর প্রতি এই ধরনের পদক্ষেপ করলে তার প্রতিক্রিয়া কি হতে পারে? প্রথমত রাহুল গান্ধী এই ইস্যুতে গ্রেফতার হলে সমগ্র দেশ জুড়ে দলিত সম্প্রদায়ের সহানুভূতির হাওয়া কংগ্রেসের দিকে চলে আসবে! কারন দলিত সম্প্রদায়ের মানুষ তারা বিষয়টি বুঝে ফেলেছেন তারা জানতে চাইছে বিজেপি আসলে দলিত ইস্যুতে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে কোন অবস্থান নেয়!
এরপরেও যদি রাহুল গান্ধীকে গ্রেফতার করা হয় তাহলে কংগ্রেসের পক্ষে সাপে বর হয়ে যাবে। একদিকে সংখ্যালঘুও মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোট অন্যদিকে এদেশের দলিত সম্প্রদায়ের বড় অংশ কংগ্রেসের দিকে ঝুকে যাবে। মনে রাখতে হবে দীর্ঘদিন ধরে এদেশের মুসলিম এবং দলিতদের ভোট ভাগাভাগি হচ্ছিল বলেই কংগ্রেস দল ব্যাকফুটে চলে যাচ্ছিল। রাহুল গ্রেফতার হলে কংগ্রেস দলের পক্ষে সুবিধা হবে।
আর এখানেই বিজেপি নেতৃত্ব দ্বিধাগ্রস্ত তারা মনে করছে রাহুল গান্ধীকে গ্রেফতার করা উচিত আবার অনেকে মনে করছেন গ্রেফতার করলে তার পরিণতি কি হতে পারে? তবে শেষ বিচারে আমরা বলবো রাহুল গান্ধীকে যদি এই ইস্যুতে গ্রেফতার করা হয় তাহলে মোদি সরকারের মেয়াদ দ্রুত শেষ হয়ে যাবে।

